0:00 বাংলাদেশের দু ধরনের লোক আছে পাগল আর ছাগল
0:03 এই দুই দলের লোকেরই লেখালেখি করে দুদিন
0:05 আগেও যারা আমাদের এখানকার ব্যবসায়ী ছিল
0:07 সামিট গ্রুপ তারা এখন আমাদেরকে উল্টো
0:09 হুমকি দেয় যে আমি তোমার দেশের লোক না আমি
0:10 সিঙ্গাপুরের নাগরিক আমি তোমার নামে মামলা
0:12 করব কেন তুমি আমার টাকা আটকাচ্ছ এখনো
0:15 ধনীরা যখনই দরকার সিঙ্গাপুরের নাগরিক হয়ে
0:17 যেতে পারে যখন দরকার তারা যেকোনো দেশের
0:21 নাগরিক হয়ে যেতে পারে কয়েক কোটি টাকা
0:23 হয়ে গেলে পৃথিবীর যেকোনো দেশের নাগরিক
0:25 হয়ে যাওয়া যায় ধনীদের ঈশ্বর দরকার কারণ
0:28 ধনীদের ঈশ্বর ছাড়া সবই আছে যে মানুষগুলো
0:30 প্রাণ হারায় যুদ্ধে
0:33 গণঅভ্যুত্থানে সেখানে প্রত্যেকটা প্রাণ
0:36 পৃথিবীর বাকি সমস্ত প্রাণের সমান একটা
0:39 মৃত্যুর সঙ্গে একটা জগতের মৃত্যু ঘটে যায়
0:43 সাহিত্য হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে কখনো
0:46 রক্তের দাগ শুকায় না পাহাড়পুরে বেহুলার
0:51 বাসর ভীমের জাঙ্গাল পাশে নওগার দিকে এরকম
0:56 একই জিনিস যেগুলো আমাদের ভূমিতেই আছে
0:59 আমাদের হতো তৈরি করা এগুলো সেই জিনিসগুলো
1:03 এখন আমরা মাঠে খুঁড়ে খুঁড়ে বের করি এবং
1:06 আমাদের এই পূর্বপুরুষের তৈরি করা সেই
1:10 ভগ্নস্তুপ গুলো কেন ছিল কি কারণে তৈরি
1:13 হয়েছিল আমরা এখন আর জানিনা তো মানুষ যখন
1:17 ইতিহাস চর্চা করে তখন একটা বিস্ময়কর
1:20 ব্যাপার ঘটে কি যে আমরা নিজেরা যা করেছি
1:24 এককালে আমরা নিজেরাই সেগুলোকে এখন আর
1:27 বুঝতে পারছি না আমি ইতিহাস চর্চা করি মানে
1:30 যা আমাদের নিজেদের হাতে তৈরি তাকে আমরা
1:34 নিজেরাই এখন আর বুঝতে পারি না আমরা
1:36 সেগুলোকে বুঝতে
1:38 চাই সেই জায়গা থেকে যদি একই সঙ্গে ভেবে
1:41 দেখেন যে আমাদের এই ভারতবর্ষের
1:44 ইতিহাস ভারতীয় উপমহাদেশের
1:48 ইতিহাস এই ইতিহাসকেও এখন যেন এখন আমরা
1:51 বুঝতে পারি না আমরা যখন নিজের দিকে তাকাই
1:55 তখন আমরা বুঝতে পারি না যে এই দেশ কোথায়
1:59 ছিল 70 বছর আগে 78 বছর আগে 100 বছর আগে
2:04 তখন কি যারা এই দেশের বাসিন্দা ছিলেন এই
2:08 ভূমির বাসিন্দা ছিলেন তারা কি জানতেন যে
2:10 একসময় বাংলাদেশ নামে আলাদা একটা দেশ হবে
2:15 অথবা এখন আমরা যারা আছি আমরা কি জানি যে
2:19 একসময় আমাদের বাবারা আমাদের পিতা-মাহু
2:22 যারা ছিলেন তারা চাইলেই এখান থেকে
2:25 কাশ্মীরে চলে যেতে পারতেন লাহোর চলে যেতে
2:28 পারতেন ভাগ হয়ে গেল ভাগ হওয়ার ফলে
2:31 সুবিধা হয়েছে যারা ধনী তারা আগেও যেমন
2:35 পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় যেতে পারছেন এখনো
2:37 তারা দরিদ্র মানুষগুলোর ঝামেলা হয়ে গেছে
2:40 যেগুলো নোয়াখালীর একটা লোক আগে লাহোর চলে
2:44 যেত কাজের খোঁজে চলে যেত পেশোয়ার প্রচুর
2:48 পরিমাণ লোক নোয়াখালী থেকে যেতেন
2:51 রেঙ্গুনে শরৎচন্দ্রের গল্পের মধ্যে পাবেন
2:54 বিভূতিভূষণের গল্পের মধ্যে স্মৃতি কথার
2:56 মধ্যে ভ্রমণ কাহিনীর মধ্যে এগুলো উল্লেখ
2:58 পাবেন ওই মানুষগুলোর কিন্তু মাথায় বাড়ি
3:01 পড়লো তারা এই যে ছোট ছোট ছোট ছোট দেশ
3:04 নামে কতগুলো ভাগ হয়ে গেল এই ভাগের
3:06 চৌহুদ্দির মধ্যে তারা আটকা পড়ে গেলেন
3:09 তারা এখন আর কোথাও যেতে পারেন না একটা
3:11 ছোট্ট জায়গার মধ্যেই তাদেরকে আটকে পড়ে
3:13 থাকতে হয় ধনীদের সমস্যা নেই তারা আগেও
3:16 যেকোনো ভাবে যেকোনো সময় পুরো পৃথিবী
3:18 তাদের করতলের মত রাখা ছিল এখনো এই পৃথিবী
3:22 তাদের করতলেই যে রাখা আছে সেটা বুঝতে হলে
3:25 তো আপনাদেরকে আর কষ্ট করতে হয় না আপনারা
3:27 জানেন যে দুদিন আগেও যারা আমাদের এখানকার
3:29 ব্যবসায়ী ছিল সামিট গ্রুপ তারা এখন
3:31 আমাদেরকে উল্টো হুমকি দেয় যে আমি তোমার
3:33 দেশের লোক না আমি সিঙ্গাপুরের নাগরিক আমি
3:35 তোমার নামে মামলা করবো কেন তুমি আমার টাকা
3:37 আটকাচ্ছ ওই টাকাগুলো কিন্তু আমাদের কাছ
3:39 থেকে মেরে দেয়া সে কিন্তু যখনই সামলা
3:42 হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে সে সিঙ্গাপুরের
3:44 নাগরিক হয়ে গেল এখন সে আন্তর্জাতিক আদালত
3:47 দিয়ে আমাকে আপনাকে হুমকি দেয় যে আমার
3:49 টাকা কেন তুমি আটকেছো আমি তো তোমার দেশের
3:51 লোক না এখনো ধনীরা যখনই দরকার সিঙ্গাপুরের
3:56 নাগরিক হয়ে যেতে পারে যখন দরকার তারা
3:59 যেকোনো দেশের নাগরিক হয়ে যেতে পারে কয়েক
4:01 কোটি টাকা হয়ে গেলে পৃথিবীর যেকোনো দেশের
4:03 নাগরিক হয়ে যাওয়া যায় আর যদি আপনার
4:06 টাকা না থাকে আপনি যদি ধনী না হন তাহলে
4:10 তাহলে আপনি ভূমন্ত সাগর পার হয়ে ইউরোপে
4:14 ঢুকবার পথে কোন একটা ছোট্ট ট্রলারের মধ্যে
4:19 গাদাগাদি করে সমুদ্র পার হয়ে অন্য একটা
4:23 দেশে যাওয়ার পথে ঠিক যেমন করে বদ্ধ একটা
4:28 কৌটার মধ্যে ব্যাংকে ঢুকিয়ে বদ্ধ করে
4:32 ঝাঁকিয়ে মারা হয় সেরকম ভাবে আপনি অসহায়
4:36 ভাবে মৃত্যুবরণ করতে
4:38 বাধ্য ফলে যখন আমরা দেশভা নিয়ে আলোচনা
4:42 করছি অথবা যখন আমরা যেকোনো ইতিহাস নিয়ে
4:45 আলোচনা করি তখন আসলে এই প্রশ্নটা মাথায়
4:48 রাখা উচিত যে এই ইতিহাসটা আসলে কার
4:52 দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা দেখব কার দৃষ্টিভঙ্গি
4:56 থেকে আমরা দেখব আর যখন আমরা বলছি যে
5:00 দেশভাগের কথা গাঙ্গার গল্প সাহিত্যে
5:05 দেশভাগ সেখানে আরেকটা প্রশ্ন কিন্তু আসে
5:08 ইতিহাসের মধ্যে তো প্রচুর তথ্য আছে উপাত্ত
5:11 আছে এই তথ্য উপাত্ত বাদ দিয়ে আমরা কেন
5:15 সাহিত্যের মধ্যে দেশভাগ খুঁজতে গেলাম এটাও
5:18 তো একটা ব্যাপার না সাহিত্য তো কি মানে
5:20 লেখালেখি যারা করে বাংলাদেশের দু ধরনের
5:23 লোক আছে পাগল আর ছাগল এই দুই দলের লোকেরই
5:26 লেখালেখি করে পাগল হচ্ছে যারা যশের পাগল
5:29 বলতে বলতেন যে ঈশ্বরের দরকার দুই ধরনের
5:32 লোকের ধনীদের ঈশ্বর দরকার কারণ ধনীদের
5:35 ঈশ্বর ছাড়া সবই আছে তো ঈশ্বর আর থাকবে না
5:38 কেন তাদের এটাও দরকার আর দরিদ্রদের ঈশ্বর
5:41 দরকার কারণ তাদের ঈশ্বর ছাড়া আর কিচ্ছু
5:43 নাই এখন ওই যে দুই ধরনের লোক লেখালেখি করে
5:45 বললাম না পাগল আর ছাগল পাগলরা হচ্ছে
5:48 যশাকাঙ্ক্ষী যশ চাই তাদের সবই তো তাদের
5:52 হয়ে গেছে টাকা আছে বাড়ি আছে গাড়ি আছে
5:54 তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিক কানাডার নাগরিক
5:56 এখন তাদের সবই আছে একটু লেখক খ্যাতি হলেও
6:00 মন্দ হয় এখন লেখক খ্যাতির জন্য তারা লেখে
6:02 তারা হচ্ছে যশের পাগল আরো কিছু লোক আছে
6:07 যারা নিতান্তই ছাপোষা মানুষ এরা চাকরি
6:10 থেকে মুক্তি পায় না সপ্তাহে ছ দিন তারা
6:13 কাজ করে দিনে 10 ঘন্টা 12 ঘন্টা করে কাজ
6:16 করে কিন্তু তারপরেও তারা এমন ছাগল
6:19 লেখালেখি না করে থাকতে পারে আমি দ্বিতীয়
6:22 গ্রুপের মধ্যে আমি নিজে পড়ি ফলে তাদের
6:24 ব্যাপারে আমি ভালো জানি ছাগল দলের মধ্যে
6:26 আমিও পড়ি তো এই পাগল আর ছাগলের মধ্যে
6:30 দিয়ে কেন আপনি দেশভাগের মত একটা ঐতিহাসিক
6:34 ঘটনাকে পাগল অথবা ছাগল এই দুই দুই দলের
6:37 কোন এক দলের কাছ থেকে আপনি কেন দেশভাগ
6:40 নিয়ে শুনতে আসেন কারণ আমার মতে একটা আছে
6:43 ইতিহাস একাডেমিতে যখন ঢুকে যায় যে
6:46 একাডেমী বাইরের লোককে আমাকে রাস্তাটাও
6:49 ব্যবহার করতে দিতে রাজি
6:53 না সেই
6:55 একাডেমী মানুষের জীবনকে সংখ্যা বানিয়ে
6:59 ফেলে নিতান্ত সংখ্যা তারা তর্কাতর্কি করবে
7:02 তিন লাখ না 30 লাখ যেন তিন লাখ লোক হত্যা
7:06 করলে অপরাধটা কম হয়ে যায় কারণ এখানে এটা
7:09 একটা সংখ্যা মাত্র তার কাছে ফলে তিন লাখ
7:11 না 30 লাখের তর্ক করে সে কি বোঝাতে চায়
7:14 আল্লাহ
7:15 আলম তিন লাখ লোক হত্যা করলে কি অপরাধ কম
7:19 হয়ে গেল গল্পটা হচ্ছে কিরকম যে জর্জ বুশ
7:22 একবার বলছেন যে আমি ইরাক আক্রমণ করব সমস্ত
7:25 কিছু ধ্বংস করে দেব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
7:27 থেকে শুরু করে যা যা আছে সব ধ্বংস করে দেব
7:29 এবং এবং বাগদাদের জাদুঘরের সামনে একটা
7:32 সাইকেল সাইকেলের পাম্প ছেড়ে দেবো লোকজন
7:35 সবাই বলে কেন কেন প্রেসিডেন্ট আপনি পাম্প
7:36 ছাড়বেন কেন এর জন্যই ছাড়বো যে দুই লাখ
7:40 লোক মেরে ফেলবো এটা তোমাদের মাথায় আসলো
7:41 না সাইকেলের পাম্প কেন ছাড়বো এটা নিয়ে
7:43 তোমাদের প্রশ্ন তো সাইকেলের পাম্প
7:45 ছাড়াটাই হচ্ছে একাডেমির কাছে
7:47 গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার দুই লাখ লোক যে মেরে
7:49 ফেলবে এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না কেন
7:51 সাইকেলের পাম্প ছেড়ে দেবেন জর্জ বুশ এটা
7:54 নিয়ে একাডেমি খুবই দুশ্চিন্তিত থাকে
7:56 কিন্তু ভেবে দেখুন প্রত্যেকটা জীবন যে
7:59 মানুষ গুলো প্রাণ হারায় যুদ্ধে
8:03 গণঅভ্যুত্থানে নিজের মুক্তির দাবি করতে
8:07 গিয়ে যারা প্রাণ হারায় সেখানে
8:09 প্রত্যেকটা প্রাণ পৃথিবীর বাকি সমস্ত
8:12 প্রাণের সমান কোন প্রাণের মূল্য পৃথিবীতে
8:16 অন্য কোন প্রাণের চাইতে কম মূল্যবান নয়
8:18 বলতেন না যে একটা মৃত্যুর সঙ্গে পুরো একটা
8:22 পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায় প্রত্যেকটা
8:24 প্রাণের সঙ্গে একটা মৃত্যুর সঙ্গে একটা
8:27 পৃথিবীর মৃত্যু ঘটে এই যে একটা প্রাণ যে
8:31 প্রাণের মূল্য লক্ষ লক্ষ প্রাণের যেকোনো
8:34 প্রাণের সমান এই মূল্যটা প্রথাগত ইতিহাস
8:39 বুঝতে পারে না প্রথাগত বিদ্যায়তনিক
8:42 কাঠামো কঠিন একটা শব্দ বললাম না
8:46 বিদ্যায়তনিক এর মানে স্পষ্টভাবে বলতে
8:48 পারাও তো একটা ব্যাপার না বিদ্যায়তনিক
8:51 এটার ইংরেজিটা কি জানেন তো একাডেমিক অনেক
8:54 সহজ না আচ্ছা মানে আমাদের বাংলা চর্চা
8:57 করতে গিয়ে আমরা গন্ডগোলে পড়ে যাই যে
8:59 আমরা কি চর্চা করি বুঝতেই পারছেন যে আমরা
9:01 এখনো পরিভাষাগুলো দাঁড় করাতে পারলাম না
9:03 না দাঁড় করানোর কারণও আছে আপনি যদি আপনার
9:06 পেটের খাবারটা কোত্থেকে আসবে এটা যদি
9:08 আপনার নিজের এখতিয়ারে না থাকে নিজের
9:10 অধিকারে না থাকে আপনি কি ভাষায় কথা বলবেন
9:13 সেটাও আপনার অধিকারে থাকবে না তখন আপনার
9:15 মনে হবে যে কিভাবে কোন ভাষা জানলে পেটের
9:18 খাবারটা আগে আসবে এতদিন ইংরেজি ছিল ইদানিং
9:20 কোরিয়ান শিখছে সবাই চাইনিজও শিখছে বাঙালি
9:23 শিখলে কোন লাভ নেই বাংলা শিখলে ফলে কেন
9:26 আপনার বাংলায় ইতিহাস চর্চা হবে কেন আপনার
9:28 বাংলা বিদ্যায়নিকের যে ইংরেজি হচ্ছে
9:31 একাডেমিক অথবা একাডেমিক যে আসলে
9:34 বিদ্যায়ের নিকের চাইতে সহজ তার কারণ তো
9:37 একটাই আমি যে ভাতটা খাই যে খাবারটা জোগাড়
9:40 করি ওই খাবার জোগাড়ের অধিকারটা
9:42 এক্সিয়ারটা আমার নিজের হাতে নেই বলে আমার
9:45 ভাষাও আমার নিজের হাতে নেই খুব সোজা হিসাব
9:48 তো যাক ইতিহাস
9:50 একাডেমী মানুষের প্রাণকে একটা সংখ্যা
9:54 বানিয়ে ফেলে যে প্রাণ যে মৃত্যুর সঙ্গে
9:59 একটা একটা পরিবার ধ্বংস হয়ে যায় এ
10:02 মৃত্যুর সঙ্গে একটা মৃত্যুর সঙ্গে একটা
10:05 জগতের মৃত্যু ঘটে যায় এইটা প্রথাগত
10:08 কাঠামোগত ইতিহাস ধারণ করতে পারে না সে দুই
10:13 লাখ লোকের মৃত্যুর চাইতে জর্জ বুশের
10:16 সাইকেলের পাম্প ছাড়াকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ
10:19 বলে মনে করে কারণ কারণ জর্জ বুশ কেন
10:23 সাইকেলের পাম্প ছাড়লেন এটা নিয়ে গবেষণা
10:26 করতে পারলে পিএইচডি হওয়ার সম্ভাবনা আছে
10:30 তাই না অথবা জার্নালে একটা লেখা ছাপা হলে
10:34 অধ্যাপক হওয়ার পথে এক ধাপে এগুলোর সুবিধা
10:36 আছে ফলে তার কাছে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ না
10:39 তার কাছে প্রাণ মানে একটা সংখ্যা মৃত্যু
10:41 মানে একটা সংখ্যা আর কিছু নয় কিন্তু
10:45 মানুষ তো বেঁচে থাকে জীবিত থাকে যে
10:49 মানুষটা মারা গেলেন যে মানুষটা
10:53 এখনো পেটের ভেতর পায়ের ভেতর গুলি নিয়ে
10:58 কাতরাচ্ছেন সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা
11:01 পাবার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে
11:04 বেড়াচ্ছেন তার
11:06 বেদনা
11:08 তার নিজের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা
11:12 ইতিমধ্যেই কি একটা সংখ্যা হয়ে গেছে
11:15 বোধহয় ইতিমধ্যেই একটা সংখ্যা হয়ে গেছে
11:17 ফলে আপনাদের কি মনে হয় না যে মাত্র
11:19 কয়েকদিন আগে যেটা ছিল একটা দুর্দান্ত
11:22 মানুষের প্রচন্ড রকমের অভ্যুত্থান
11:25 বিস্ফোরণ এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে সেটা
11:29 কতগুলো পর্যবসিত হয়ে যাচ্ছে ফলে এগুলোকে
11:33 ধারণ করবে কে এই বেদনাকে ধারণ করবে কে এই
11:38 প্রাণকে এই প্রাণের আহতিকে ওই
11:42 পরিবারগুলোর সর্বস্ব
11:45 নেই হয়ে যাওয়াকে কে ধারণ করবে সংখ্যা
11:48 পত্রিকা শুষ্ক ইতিহাস না ওগুলোকে ধারণ
11:53 করতে পারে একমাত্র
11:55 সাহিত্য সাহিত্য হচ্ছে সেই জায়গা যেখানে
11:59 কখনো রক্তের দাগ শুকায় না ওইখানে রক্তের
12:04 দাগ চিরকাল তাজা থাকে যে কারণে কার্ল
12:08 মার্কস
12:09 বারবার তার ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে ইউরোপের
12:14 ইতিহাসকে বোঝানোর ক্ষেত্রে যতটা বেশি যতটা
12:17 প্রবল পরিমাণে ব্রিটিশ মিউজিয়াম
12:20 লাইব্রেরিতে বসে তথ্য ইতিহাসের উপাত্ত
12:23 খুঁজে বেরিয়েছেন সমানভাবে তিনি গুরুত্ব
12:25 দিয়েছেন বালজাকের লেখাকে বালজাকের
12:27 উপন্যাসকে তার লেখার মধ্যে বারবার ফিরতে
12:30 এসেছে এর কথা ডক্টর হাউসের কথা বারবার
12:34 ফিরে এসেছে বাইবেল থেকে বারবার ফিরে এসেছে
12:38 গেটে থেকে বারবার ফিরে এসেছে ভার্জিল থেকে
12:41 সাহিত্যের উপাদান গুলো
12:44 এইজন্য আমাদেরকে ফিরে আসতে হয় সাহিত্যের
12:47 কাছে ফিরে আসতে হয় সেই জায়গায় যেখানে
12:49 কখনো রক্তের দাগ শুকায় না যেখানে মানুষ
12:54 শুধুমাত্র সংখ্যা হয়ে যায় না এখন আমরা
12:57 এই জায়গাটা থেকে কিন্তু একটা চমৎকার
13:01 প্রশ্ন তৈরি করতে পারি যে আমাদের
13:05 এখানে বারবার যে আমরা মুক্তির জন্য লড়াই
13:08 করেছি আমাদের এই জনগোষ্ঠীর
13:11 মানুষেরা তাদের সেই লড়াইগুলো আমাদের
13:15 সাহিত্যে কতটা জীবন্তভাবে টিকে রাখতে
13:20 পেরেছি আমরা এ প্রশ্ন কিন্তু আমাদেরকে
13:22 করতে হবে এই প্রশ্ন আমাদের উত্তর পাওয়া
13:25 দরকার কেন দরকার দরকার এই জন্য যে মার্কস
13:28 বলতে না গুরুত্বপূর্ণ কথা কথা যে ভাষা
13:31 হচ্ছে চেতনার শরীর আপনার ভাষায় যদি আপনার
13:35 আকাঙ্ক্ষা
13:37 ধারণ আপনি করতে না পারেন আপনার গল্পে
13:41 আপনার ইতিহাসে আপনার উপন্যাসে আপনার গানে
13:45 যদি আপনার ইতিহাসকে আপনি ধারণ করতে না
13:48 পারেন তার মানে আপনার চেতনার মধ্যে আপনি
13:51 আপনার আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে পারেননি
13:54 সুতরাং আপনার গল্পে আপনার উপন্যাসে আপনি
13:57 ইতিহাস কেমন ভাবে উঠে এসেছে এটা শুধুমাত্র
14:00 গল্প বা উপন্যাসের ব্যাপার নয় এটা
14:03 শুধুমাত্র সাহিত্যের ব্যাপার নয় এটা
14:05 হচ্ছে আপনি আপনার আকাঙ্ক্ষাকে যে
14:07 আকাঙ্ক্ষাকে বুকের মধ্যে নিয়ে আপনি
14:09 বারবার নিজেকে মুক্ত করবার জন্য লড়াই
14:11 করেছেন সেই মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে আপনি
14:14 আপনার চৈতন্যের মধ্যে কতটা ধারণ করতে
14:16 পেরেছেন তার প্রমাণ পাওয়া যাবে আপনার
14:19 গল্পে আপনার সাহিত্যে আপনার গানের মধ্যে
14:22 সুতরাং গল্প বা উপন্যাস শুধু গল্প উপন্যাস
14:26 নয় একটা জাতি তার আকাঙ্ক্ষাকে কতটা তার
14:29 চৈতন্য ধারণ করতে পেরেছে সেটার বোঝাপড়ার
14:33 জায়গা তার সাহিত্য ফলে আমরা যখন দেশভাগের
14:37 সাহিত্যের কথা বলতে আসছি দাঙ্গার গল্প
14:39 বলতে আসছি এই জিনিসটা আমি দেখিনি আগে
14:42 মেয়ে চমৎকার একটা ব্যাপার কোন একজন এই
14:44 বইটা পুরোপুরি উল্টে পাল্টে দেখেছে সাদাত
14:47 হাসান মান্টুর কালো সীমানা নামের বইটা এটা
14:49 ভেবেই আমার ভালো লাগছে কারণ মান্টো প্রায়
14:52 ক্লাসিকের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং
14:54 ক্লাসিকের সংজ্ঞা আপনারা জানেন তো
14:57 ক্লাসিকের সংজ্ঞা হলো যে বইয়ের কথা সবাই
15:00 বলে কিন্তু কেউ পড়ে
15:02 না তো ওইটা হচ্ছে ক্লাসিক ওই হিসেবে
15:06 রবীন্দ্রনাথ ক্লাসিক মনে হয় নাকি মানট তো
15:08 ক্লাসিক হয়েই গেছেন না এটা ভুল বললাম এই
15:11 বইটার কিন্তু প্রায় ছয় সাতটা না জানি আরো
15:13 বেশি এডিশন হয়ে গেছে আর প্রকাশকরা এতই কম
15:16 রয়ালিটি দেয় যে আমরা আগ্রহ থাকে না কয়টা
15:18 এডিশন হলো ওটা জানার তো যাক মানটো আমাদের
15:21 আলোচনায় আসবেন ইন্তেজার হোসেন নাম জানেন
15:24 ইন্তেজহার হোসাইনের আমাদের আলোচনায় আসবেন
15:27 গুলজার গুলজারের নাম বোধহয় অনেকেই
15:30 সবচেয়ে বেশি না হিন্দি গান শোনাবে হিন্দি
15:33 গান বলে কিছু নেই তো মানে যেটাকে উর্দু
15:37 গান বলি এটা উর্দু তো বলা মুশকিল কারণ এর
15:39 যে ভাষাটা আসলে ছিল সেটা হিন্দিও না
15:42 উর্দুও না হিন্দুস্তানিও না হিন্দুস্তানি
15:45 বলতে ইংরেজ না জায়গা থেকে সিরিজও জানে না
15:49 অনেকে হ্যাঁ অনেকেই জানে না এখন যাক আমার
15:52 এমনিতে দুর্নাম আছে ফেসবুকে এগুলো যায় তো
15:56 তলে অনেকে মন্তব্য করে আমি কিন্তু মন
15:58 দিয়েও পড়ি কিছু কিছু লোক খুব প্রশংসা করে
16:01 যারা প্রশংসা করে আমি স্ক্রল টেনে দেখেছি
16:04 তারা আমার আলোচনা তো আমি দুই ঘন্টার কম
16:06 জেনারেল থামে না আপনারা ভয় পাবেন না তো
16:08 আমি তো অনেকক্ষণ ধরে বলি দেখি যারাই
16:11 প্রচুর প্রশংসা করছে তারা সবাই আলোচনার
16:14 শুরুর পাঁচ থেকে সাত মিনিটের মধ্যে
16:16 প্রশংসা গুলো করেছে তার মানে কেউই
16:18 আলোচনাটা শুনিনি ফলে যে যত প্রশংসা করে
16:22 আমি বুঝি যে ও সবচেয়ে কম শুনেছে কিছু
16:25 কিছু লোক আবার অনেকক্ষণ শোনে তারা আবার
16:28 বলে যে আসল কথা কই
16:32 মুশকিল হচ্ছে আসল কথা কি আমি নিজেও জানিনা
16:36 আসল কথাটা কই এখন ওরা ভাবি যে যেহেতু
16:40 পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের যুগ পাঁচ
16:42 থেকে সাত মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট
16:44 প্রেজেন্টেশনে কয়েকশো কোটি টাকার
16:46 প্রজেক্ট পাওয়া যায় আর আমি এক টাকাও
16:49 পাওয়া যাবে না দুই ঘন্টা ধরে বকবক করে
16:51 যাচ্ছি তোদের কাছে খুব বিরক্ত লাগে যে এত
16:54 কথা কিসের আসল কথা কই এত কথা ঘুরায়ে বলেন
16:57 কেন এক কথা বারবার বলেন কেন তাদেরকে আমার
17:01 মনে হয় যে শ্রী রামকৃষ্ণ উনি গল্প করতেন
17:04 তো বাঙালির মধ্যে শ্রেষ্ঠ রসিক শ্রী
17:07 রামকৃষ্ণ তো উনার একজন ভাগ্নে ছিল বলতেন
17:12 হৃদে
17:13 হৃদয়নাথ উনি বলল মামা তুমি তোমার
17:16 গল্পগুলো একই গল্প বারবার বলো কেন একই
17:18 গল্প একেক জায়গায় তুমি বারবার বলতে থাকো
17:21 এই গল্প শ্রী রামকৃষ্ণ আবার মুখটুক খারাপ
17:23 ছিল একটু শ্রী রামকৃষ্ণ বলল শালা আমার
17:26 গল্প আমি বলবো একবার বলবো 100 বার বলবো
17:29 তোর কি রে
17:30 তো আমিও বলি আমার কথা তো আমি বলবো একবার
17:32 বলবো 100 বার বলবো বারবার বলবো যার শোনার
17:35 ইচ্ছে সে শুনুক না শুনলে কেউ বাধাও তো
17:37 দিচ্ছে না তাই না এখন মান্টুর কথা আসবে
17:41 আসবে ইন্তেজার হোসেনের কথা আসবে গুলজারের
17:45 কথা কেন আসবে কারণ
17:49 দাঙ্গার গল্প বলতে গিয়ে আমরা পাঞ্জাবি
17:52 গল্পের প্রসঙ্গ টানতে পারতাম আমরা বাংলা
17:55 গল্পের প্রসঙ্গ টানতে পারতাম আমি টানবো
17:57 বটে আমরা টানতে পারি পারতাম একই সঙ্গে আরো
18:01 কয়েক ভাষা দক্ষিণী ভাষাতেও দেশভাগ নিয়ে
18:04 গল্প লেখা হয়েছে কৃষ্ণচন্দ্র তো আসবেনই
18:07 কিন্তু আমি বেশি গুরুত্বটা দিচ্ছি উর্দু
18:10 গল্পের মধ্যে উর্দু সাহিত্যের মধ্যে কেন
18:13 কারণ এই দেশভাগ নিয়ে উর্দু সাহিত্যের
18:18 একটা আলাদা শাখাই তৈরি হয়ে গেছে